en
বুধবার , ২০ মার্চ ২০১৯ | ৩রা মাঘ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  1. Featured
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আর্ন্তজাতিক
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. খেলাধুলা
  8. ছবিঘর
  9. জন দুর্ভোগ
  10. জাতীয়
  11. টপ লিড
  12. বিনোদন
  13. মহানগর
  14. রাজনীতি
  15. লিড

বন্দর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিবে জাপা, প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ মহাসচিবের

প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের কন্ঠ
মার্চ ২০, ২০১৯ ২:৪৪ অপরাহ্ণ
PicsArt 03 20 08.37.47 1

নারায়ণগঞ্জের কন্ঠ:

আসন্ন বন্দর উপজেলা নির্বাচনে সবকটি পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্ধীতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুতি গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা। এ সময় তিনি সাংসদ সেলিম ওসমানের ভূয়শী প্রশংসা করে বলেন উনার মত এমপি বাংলাদেশে আর একটিও নাই। অনেকেই আছেন টিআর কাবিখা বরাদ্দের টাকা পর্যন্ত পকেটে ডুকিয়ে ফেলেন। আর সেলিম ওসমান নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। এই নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরে তিনি ৭টি ইউনিয়ন ৭টি স্কুল নির্মাণ করেছেন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে। আমার মনে হয় এমন এমপি আওয়ামীলীগেরও নাই। আমি বিশ্বাস করি যতদিন সেলিম ওসমান বেঁচে থাকবেন ততদিন উনাকেই এই এলাকার এমপি নির্বাচিত করবেন।

২০ মার্চ বুধবার বিকেল ৫টায় পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এমপি সেলিম ওসমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর ৮৯তম জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

PicsArt 03 20 08.38.17

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ৩০০ পাউন্ডের কেক কেটে দিন পালন করে রীতিমত রেকর্ড সৃষ্টি করেছে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি।

মশিউর রহমান রাঙ্গা আরো বলেন, নাসিম ওসমানকে আমাদের চেয়ারম্যান অত্যন্ত ভালবাসতেন। সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকেও উনি অনেক ভালবাসেন এবং পছন্দ করেন। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর আমাদের দলীয় কার্যালয়ে জানাজা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন উনার দাফন না হওয়া পর্যন্ত যেন আমি উনার পাশে থাকি। আমি নারায়ণগঞ্জে উনার দাফন হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলাম। আজকে সেলিম ওসমান আমাকে উনার বড় ভাই বলেছেন। আমিও বলছি আমি উনার বড় ভাই। আমরা একই পরিবার অর্থ্যাৎ জাতীয় পার্টি পরিবারের সদস্য। একই ভাবে আমরা সরকারের সাথে সম্পৃক্ত। গত ৫ বছর আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেছি। আমি মনে করি আমাদের দেশের উন্নয়ন দরকার, রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজের উন্নয়ন দরকার। সেই কারনেই আমাদের সরকারের সাথে সম্পর্কের দরকার। আমি পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষকে হত্যা করতে চাই না। মানুষকে খুন করতে চাইনা, বিভ্রান্ত করতে চাইনা, মানুষের টাকা লুটপাট করতে চাইনা। আমরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করতে চাই। সেলিম ওসমান এর উৎকৃষ্ট উদাহরন। নারায়ণগঞ্জে আরো একজন এমপি আছে ফেসবুকে দেখি উনিও এলাকার উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। গরীব মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এমনি ভাবেই আমরা ভবিষ্যতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

বঙ্গবন্ধুর ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে রাঙ্গা বলেন, আমরা যেন দেশের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে আগে আমাদের সোনার মানুষ গড়তে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনের সোনার মানুষ। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন এই ঘোষণা দিয়ে ছিলেন আমি তখন স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। আমরা হাতে তখন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প তিনি তুলে দিয়ে ছিলেন। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই নির্ধারিত সময়ে আমরা সেই লক্ষ্য পূরন করতে পারবো।

সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল এবং উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে এমপি সেলিম ওসমানের প্রতি অনুরোধ রেখে দলীয় মহাসচিব বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী করা সহ জেলা, মহানগর ও উপজেলা কমিটি গঠন করবেন। আগামী উপজেলা নির্বাচন সহ আসন্ন সকল নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতিদ্ব›দ্ধীতা করবে প্রয়োজনে আমাকে ডাকবেন আমি নিজেও এসে আমাদের সাথে কাজ করবো। আমি যেভাবে দুহাত ভরে পকেটের টাকা খরচ করে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন সেটি আপনার পরিবারের ঐহিত্য বহন করে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যত প্রত্যাশা করছি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানা উল্লাহ সানু।

সভাপতির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানকে হারিয়ে আমি আমার মশিউর রহমান রাঙ্গাকে আমার বড় ভাই হিসেবে পেয়েছি। আজকে আমরা জাতীয় পার্টির অভিভাবক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়েছি। আজকে আমাদের জাতীয় পার্টিকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের দলীয় কার্যালয় হবে। জেলা ও মহানগর সহ প্রতিটি উপজেলা কমিটি গঠন করতে হবে। আমার পাশেই আরেকজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। আপনারা সংগঠিত থাকতে আগামীতে ২টা নয় নারায়ণগঞ্জ থেকে ৫টাই জাতীয় পার্টির এমপি হবে ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আমরা জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগ থেকে আলাদা কিছু না। গত ১০টি বছর আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগীতা করে আসছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গত ১০ বছরে সংসদে বহুবার জাতীয় পার্টিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামীলীগকে সহযোগীতা করার জন্য। আওয়ামীলীগ বলতেই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বুঝি।  অতত্রব কোন পাতি নেতা আমাকে আওয়ামীলীগ সম্পর্কে শেখাতে আসবেন না। ভুলে যাবেন না আমার দাদার বাড়িতেই কিন্তু আওয়ামীলীগের জন্ম। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এই আসনে নির্বাচনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা শুধু বড় বড় বক্তব্য চাই না। আমরা এলাকার উন্নয়ন চাই। এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার মাধ্যমে ভাগ্যের পরিবর্তন চাই।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেছেন, জাতীয় পার্টি একটি পরিবার। আজকে এখানে উপস্থিত সকলেই আমরা এই পরিবারের সদস্য এবং পরিবারের অভিভাবক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আমার পিতার মত। ওসমান পরিবারের হাত ধরেই আমার রাজনীতি শুরু। প্রয়াত নাসিম ওসমান আমার রাজনৈতিক শিক্ষা গুরু। উনার হাত ধরে নারায়ণগঞ্জে যেভাবে জাতীয় পার্টি শুরু করেছিলাম। আজকে উনার অবর্তমানে সেলিম ওসমানের হাত ধরেই নারায়ণগঞ্জে আবারো জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে তুলবো। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জেলা ও মহানগর সহ সকল উপজেলা এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হবে। সবাইকে সেলিম ভাইয়ের নেতৃত্বে উনার পাশে থেকে দলের জন্য কাজ করে যেতে হবে। আজকে দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে আপনারা ভুলে যাবেন না এই উন্নয়নের যাত্রা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে ছিল। উনার মাধ্যমে উপজেলা পদ্ধতি চালু করায় স্বাধীনতার পর সব থেকে বেশি উন্নয়নের রেকর্ড জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে হয়ে ছিল।

মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসিন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ, বন্দর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি সাহাবুদ্দিন সাবা, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ হোসেন, ১৯নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা মহিলা পার্টির সভাপতি আঞ্জুমান আরা ভূইয়া, মহানগর যুব সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন ভাওয়াল,গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ সহ  জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ - লিড