বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের নারায়ণগঞ্জবাসীর স্মরণ

নারায়ণগঞ্জের কন্ঠ: একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১মিনিটে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান ভাষা শহীদদের স্মরণ করলো নারায়ণগঞ্জবাসী। প্রথমে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ। এরপর জেলা পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল আলম পিপিএম (বার) এর নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন শ্রদ্ধা জানানোর পর বিভিন্ন সরকারী বেরসকারী সংস্থা, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকালে প্রভাত ফেরি। জেলার রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও সুধীমহলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাবে। সকলের মুখে থাকবে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু ঝরায়ে ফেব্রুয়ারি। ফুল হাতে ছোট শিশুরা যাবে স্কুলের মাঠে। শহীদ মিনারে।
ওদিকে বরাবরের মতো এবারও মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয় শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকেই। নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা আলপনা অ্যাঁকে শহীদ মিনারের সামনের সড়কে।

পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক জান্তা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালী জাতি তা রুখে দিয়েছে। ছোট শিশু দিয়া এতসব না বুঝলেও এতটুকু বুঝতে পেরেছে ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররা প্রাণ দিয়েছিল। সে কারণে শ্রদ্ধার সাথে এই দিনটিতে ভাষা শহিদদের স্মরণ করা হয়। সকালে খালি পায়ে প্রভাত ফেরি করে সবাই শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেয়। কিন্তু ছোট ছোট অনেক শিশু প্রভাত ফেরি দেখেনি। আজ সবার সব পথ এসে মিলে যাবে এক অভিন্ন গন্তব্য চাষাড়া শহীদ মিনারে। হাতে হাতে বসন্তে ফোটা ফুলের স্তবক, কণ্ঠে নিয়ে চির অম্লান সেই গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি… ধীর পায়ে এগিয়ে যাবে আবাল-বৃদ্ধ বনিতা। ভাষা শহীদদের প্রতি নিবেদিত ফুলে ফুলে ঢেকে যাবে শহীদ মিনারের বেদি।

বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে আজ থেকে ৬৮ বছর আগে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মদানের এই অনন্য ঘটনা স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

আপডেট

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x